জঘন্য অপরাধ করে কি ভাবে জেল ছাড়া পায়? প্রশ্ন তুলে দোষ চিন্তায় হতবাক এলাকাবাসী

কুতুবদিয়া, দক্ষিণ ধুরুং, দরবার রোড-০৬ নম্বর ওয়ার্ড, সিকদার পাড়া এলাকায় গত ০৭ই আগষ্ট ঘটে যাওয়া ঘটনায় চোখ দেয় দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ।

ঘটনাস্থলে সরাসরি গিয়ে খুঁজ খবর নিলে বেরিয়ে আসে মর্মান্তিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং দেখা দেয় এখনো রাস্তায় লেগে আছে রক্তের চাপ

এই মর্মান্তিক ঘটনার সর্বপ্রথম ইস্যু কুতুবদিয়া দরবার শরিফ ওরশ থেকে

গেল গত ফেব্রুয়ারী ১৮-১৯ তারিখ দরবার ওরশ, ঐ ওরশে প্রায় বিভিন্ন প্রকারের ব্যবসা নিয়ে রাস্তার অলিগলিতে হয় স্টল।
সেখানে বাড়ির পাশে স্টল দেওয়ার মতো কিছু জায়গা ছিল আহত হওয়া মোঃ হাশেমের (৫৬), তাই ঐ জায়গায় কিছু স্টল করে ভাড়া দেয় মোঃ হাশেম। ঐ সময় ওরশ চলাকালীন ১৮ তারিখ পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাস এবং মাদক সেবনসহ জলদস্যু ও ছিনতাইকারী বিভিন্ন স্টলে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাই করা শুরু করে তার মধ্যে মোঃ হাশেম দেখতে পেলে তাদেরকে ধাওয়া করার চেষ্টা চালায় এই মধ্যে বেশ কিছু সময় বাদবিতণ্ড হয় সন্ত্রাসীদের সাথে, পরে ঘটনাস্থলে পোঁছে যায় কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। মিমাংসা হয় ঘটে যাওয়া ঘটনা

এখন সেই কালে ঘটে যাওয়া ঘটনার ইস্যু তুলে আবারো হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা করে মোঃ হাশেমের উপর।

মূহুর্তের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে মোঃ হাশেম।
তিনি পেশাগত একজন ব্যবসায়ী। লবণ ও সারের ডিলারী ব্যবসা করে থাকেন। সে গত ০৭ই আগষ্ট অনুমান রাত ০৯টায় দরবার রাস্তার মাথা থেকে ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে রওনা হয়, ঐ সময় পরিকল্পিত জায়গায় দাড়িয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

তাৎক্ষণিক চিৎকার চেচামেচি শুনে জড়ো হয় এলাকাবাসী।
দেখতে পেল সন্ত্রাসদের হাতে ব্যবসায়ী মোঃ হাশেম গুরুতর জখম হয়েছে সাথে সাথে এলাকাবাসী পুলিশ কে এই ঘটনার ব্যাপারে জানায়। পুলিশ এই ঘটনার ব্যাপারে জেনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পোঁছে যায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পায় সন্ত্রাসী রাকিবুল ইসলাম কে, তাকে এলাকাবাসীরা হাতেনাতে ধরে বন্ধি করে রেখেছে। এরপর পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায় রাকিবুল ইসলামকে। এই দিকে গুরুতর আহত হওয়া মোঃ হাশেম কে নিয়ে তার ছেলে মোঃ সাইফুল বারী ১০ থেকে ১২ জন জঘন্য সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে মামলার অভিযোগ দায়ের করে।

মামলা নং-১/১০০-২০
অপরাধ দ্বারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/ ৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/ ৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০ বে-আইনি জনতা দলবদ্ধ হইয়া গতিরোধ করত: হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করিয়া সাধারণ ও গুরুতর জখম, চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করিবার অপরাধে এইসব দ্বারায় মামলা নেওয়া হয়। এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় এসআই মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপি-৭৪৯২১১৩০৫১

দায়ের কিত মামলায় ১০,১৮০০০ (দশ লক্ষ আটার হাজার) টাকার উদ্ধারের অভিযোগও রয়েছে।

অপরাধীগণ
১. নাইমুল ইসলাম (নাইয়ুম) (২৫) পিতা-আবদুল মালেক, সাং-নয়াপাড়া, ০৬ নম্বর ওয়ার্ড, দক্ষিণ ধুরুং। ২. রাকিবুল ইসলাম (২১) পিতা-মোঃ কাইছার, সাং-এ হক মৌলভী পাড়া, ০১ নম্বর ওয়ার্ড, লেমশেখালী। ৩. আবদুল হান্নান (১৮) পিতা-মোঃ ফরিদুল ইসলাম, সাং-বরইতলী পাড়া, ০৫ নম্বর ওয়ার্ড, দক্ষিণ ধুরুং। ৪. মোঃ শাহাজাহান (১৯) পিতা-মোঃ আবদুর রশিদ। ৫. ওমর হামজা (১৯) পিতা-মৃত আবদু শুক্কুর, উভয় সাং-নয়াপাড়া, ০৬ নম্বর ওয়ার্ড, দক্ষিণ ধুরুং। এখানে অজ্ঞাত আরো ৬/৭ জন রয়েছে বলে জানা গেছে এলাকাবাসীদের থেকে, সবই কুতুবদিয়া থানার আওতাধীন রয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার বিপাকে এলাকাবাসীরা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল, গুরুতর আহত হওয়া ব্যক্তি হাসপাতাল না ছাড়তে অপরাধীরা কি ভাবে জেল থেকে বেরিয়ে আসে? এই নিয়ে কোনো আইনী জোর নেই বলে মন্তব্য করে যাচ্ছে এলাকাবাসীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

kutubdianews

দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ সর্বস্তরের খবর অনুসন্ধানে সত্য তুলে ধরবো আমরা

Leave a Reply

x
%d bloggers like this: