বেহাল অবস্থায় কুতুবদিয়া – সমুদ্রের জলে ভাসছে হাজার হাজার পরিবার

কুতুবদিয়ায় বসবাসরত পরিবারের তালিকা করে দেখলে বেরিয়ে আসবে সমুদ্রের জলে ভাসমান অবস্থায় হাজারো পরিবারের অবগতির বসবাস, – কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এই অবগতির হাল?

এই প্রশ্ন ছুঁড়ে
কুতুবদিয়া জনগণের মুখে বলা কিছু কথা…
অনেকে বলে যাচ্ছে – কুতুবদিয়ার টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় দেখতে হচ্ছে আমাদের আজ এই সমুদ্র জলের বেহাল দৃশ্য।

তারা বলেছেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে বছরে অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে শুধু বাঁধের নকশা, নির্মাণের মনিটরিং ও অন্য কারিগরি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা। সেই সাথে যৌথভাবে ‘জাতীয় বাজেট ২০২০-২১: বেড়িবাঁধ ও কুতুবদিয়া মানুষের সুরক্ষা’ শীর্ষক বাজেট দাবি করে যাচ্ছেন।

বক্তারা বলেন, কুতুবদিয়া বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু বাঁধের নকশা, নির্মাণের মনিটরিং ও অন্য কারিগরি সহায়তা দেবে। কুতুবদিয়া ও কয়রার মতো অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে অনতিবিলম্বে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

তারা বলেন, বিচ্ছিন্ন চরগুলো, যেখানে দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি, সেখানে ভবিষ্যতে বাঁধ নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। বাংলাদেশের উপকূলকে জলবায়ু সহনশীল করতে বেড়িবাঁধ কেন্দ্রিক আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।
লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা, যথাযথ নাব্যতা বজায় রাখা, বাঁধের উভয় পাশে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাঁধ সংরক্ষণের পরিকল্পনা নিতে হবে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের পরও আমরা দেখলাম, এই বাজেটে বেড়িবাঁধে বাজেট বরাদ্দ বাড়েনি। যা কুতুবদিয়া মানুষের প্রাণ ও তাদের ফসল রক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র পীড়িত অঞ্চলের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে পারতো। এরফলে কুতুবদিয়া দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দ্বীপের আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা একসময় কালের কণ্ঠকে একটা কথা বলেছিল,,

বলেছিল: বালির বাঁধ কথার উপমায় শুনেছি কিন্তু বাস্তবে দেখছি কুতুবদিয়া দ্বীপে এই প্রথম। শতকরা হিসাবেও শতভাগ বালি দিয়ে সাগর তীরে এভাবে বালির বাঁধ নির্মাণের ঘটনা আমি আর দেখিনি।

তিনি আরো বলেন,
কচু পাতায় পানি ঢাললে যেমনি পানি থাকে না তেমনি সাগর তীরে বালির বাঁধও টিকে না। গত করোনা পরিস্থিতি কালে লগডাউনের এমন সময়ে জনগনের চোখ এড়িয়েই পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি প্রকল্পের নামে ঠিকদার একদম গোপনে কাজটি করে যাচ্ছে। মূলত কাজটি কোন রকমে করেই টাকাটা জায়েজ করা ফেলাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। তার বলা এমন কথার শতভাগ পক্ষভুক্ত হয়ে এমনি মন্তব্য করে যাচ্ছেন কুতুবদিয়া বাসীগণ।

আজ এই বর্ষার মৌসুমে কুতুবদিয়া উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আওতাধীন বসবাসরত হাজারো পরিবারের অবস্থার অবগতি দেখে থেমে নেই কুতুবদিয়ার যুবক’রা। প্রায় যুবকের হাতে স্মার্টফোন থাকায় কেউ লাইভে, আর কেউ ছবি তুলে পোস্ট করে যাচ্ছে বিভিন্ন সোশালে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই পোস্ট গুলো করার ফলে চোখের নজরে পড়লে হয়তো সহানুভূতি জাগতে পারে জাতীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আমলে নিবে সরকারও।

নিজস্ব প্রতিবেদন

Copyright© by Kutubdia News

kutubdianews

দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ সর্বস্তরের খবর অনুসন্ধানে সত্য তুলে ধরবো আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: