সুযোগ নেই এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

এই পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতির কারণে সময়মত হতে পারেনি এইচএসসি পরীক্ষা, কখন এই পরীক্ষা নেওয়া হবে তা নিয়ে কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে পরীক্ষা নিয়ে কোনো তারিখ সক্রিয় হয়নি। কিছুদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষার পর্যায়ে একটা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সে সময়ের উপর ভিত্তি করে করোনার কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। ‘এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই,’ বলে জানান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। স্থগিত রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষাও। করোনার কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা বাতিল ঘোষণার পর এইচএসসি বাতিল হচ্ছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি স্পষ্ট করতে জানায় যে, এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, বাতিলের কোনও সুযোগও নেই।

দেশে ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাই সরকার এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক বিভিন্ন কথা বলেন। সেগুলো নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে নানারকম সম্ভাবনার কথা বলা হয়। আমি কখনও বলিনি যে, পরীক্ষা কমিয়ে ফেলবো। আমি বলেছি কোনও কোনও দেশে পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়েছে। কোথাও পরীক্ষা ছাড়া অটো-প্রমোশনও হয়েছে। একেক দেশে একেকভাবে সমস্যার সমাধান করেছে। আমরা এর কোনোটির কথাই বলছি না। এগুলো নানান রকমের চিন্তা-ভাবনা। কে কী করছে তা দেখছি, কোনটা কত ভালো তা দেখছি। কতটা মন্দ সেটাও খতিয়ে দেখছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনাও একটা আছে। সেটা হলো আমাদের এইচএসসির সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল, এখনও আছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি এখন কি পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি আছে? ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী। সমাজটা যেমন, তাতে পরীক্ষার্থী যখন পরীক্ষা দিতে যাবেন, তখন পরিবারের কেউ না কেউ সেখানে যাবেন। বামা-মা, ভাইবোন সব সময় সঙ্গে যান। তারাও লাখ লাখ।

যারা পরীক্ষা পরিচালনা করবেন তারাও লক্ষাধিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন এবং প্রশাসনের লোকসহ নানা রকম লোকের সম্পৃক্ততা রয়েছে সরাসরি। এত লাখ মানুষ, হয়তো ২০/২৫ লাখ হবে। এই মানুষগুলোকে নিয়ে যে পরীক্ষা হবে, যাদের বেশিরভাগ লোক চলাচল করবেন গণপরিবহনে। এত লোকের সমাগমে যে কর্মযজ্ঞ তা এখন করার মতো আদৌ পরিবেশ আছে?

দীপু মনি আরও বলেন, ‘সরকার সবদিক তীক্ষ্ণভাবে খেয়াল রাখছে, সবদিক বিবেচনা করছে। অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীর উদ্বেগের কথা ভেবেছি। আমরা যারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি তাদেরও অনেক পরিবারে পরীক্ষার্থী রয়েছে। কাজেই এমন নয় যে, বিষয়টি আমাদের কাছে অজানা।

তাই আমরা বলছি অনুকূল একটা পরিবেশ হলে সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে আজকেই জানিয়ে বললাম কাল থেকে বা দুই দিন পর থেকে পরীক্ষা তা নয়। যখন অনুকূল পরিস্থিতি হবে, ঘোষণা করবো তার থেকে অন্তত পক্ষে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে পরীক্ষা নেবো। তাতে আশা করি, আমাদের পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হবে না।

সুত্রঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

Copyright© by Kutubdia News

kutubdianews

দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ সর্বস্তরের খবর অনুসন্ধানে সত্য তুলে ধরবো আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: