অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর কারণ দাঁড়িয়েছে আনুশকার

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। এদিকে শিক্ষার্থী আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তার প্রেমিক ইফতেখার ফারদিন দিহান। ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থী ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। যৌনাঙ্গ ও পায়ু পথ দুই পাশেই ইনজুরি ছিল। দুই জায়গা দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে জবরদস্তির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

চেতনানাশক কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছে কি না এবং ঘটনাস্থলে একাধিক ব্যক্তি ছিল কি না এসব জানতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিসেরাও সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে বয়স জানতে চেয়েছে। তাই বয়স নির্ধারনের জন্য ওই ছাত্রীর লাশের এক্স-রেসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরে স্বজনরা তার লাশ নিয়ে যান। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। দুপুর ১টায় কলাবাগান থানা পুলিশ দিহানকে আদালতে হাজির করে। এ সময় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর সোয়া ২টার দিকে তাকে একই বিচারকের আদালতে নেওয়া হয়। বিকাল ৪টার পর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে নিহতের বাবা মো. আল-আমিন বাদী হয়ে দিহানকে একমাত্র আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ দিহানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করে। পুলিশ বলছে, নিহত আনুশকার সঙ্গে গ্রেপ্তার দিহানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানেই প্রেমিক দিহানের কল পেয়ে তার বাসায় যায় আনুশকা। ওই সময় দিহানের বাসা ফাঁকা ছিল। বাসায় যাওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা আল-আমিন উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আমার স্ত্রী অফিসে এবং আমি সকাল সাড়ে ৯টায় ব্যবসার কাজে বের হয়ে যাই। পরে আমার মেয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মাকে ফোন দিয়ে বলে, সে কোচিংয়ের পেপার্স আনতে বাইরে যাচ্ছে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে, আমার মেয়ে তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করিয়েছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছায়।

সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন, আমাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি, দিহান আমার মেয়েকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। দিহান ফাঁকা বাসায় আমার মেয়েকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অচেতন হয়ে যায়। পরে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দিহান চালাকি করে আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ২ ধারায় খুনসহ ধর্ষণ মামলা করেছেন মেয়েটির বাবা মো. আল-আমিন।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সামনে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার নিজের সোবহানবাগের বাসা থেকে কলাবাগানে প্রেমিক দিহানের বাসায় যায় আনুশকা। সেখানে যাওয়ার পর আমরা জেনেছি, আনুশকা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বন্ধুর ভাষ্যমতে, এরপর তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করার আগেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধারসহ দিহান নামে ওই ছেলেটিকে আটক করি। এরপর তাকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্মতির ভিত্তিতে শারীরিক মেলামেশা হয়। এরপর ওভার ব্লিডিং হয়, এ কারণে আনুশকা সেন্সলেস হয়ে যায়। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। তবে দৈহিক মেলামেশার বিষয়টি পরীক্ষা-নীরিক্ষা সাপেক্ষে প্রমাণের বিষয়। এর বাইরে অন্য কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না সেটি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মামলায় বাদীর অভিযোগে ডিসি বলেন, ভুক্তভোগী ধর্ষণ হয়েছে কি না তদন্তের ব্যাপার, পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাসায় ডেকে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ডেকে নেওয়া হয়েছে কি না মামলাতেও উল্লেখ নেই।

The news collected

Copyright© by Kutubdia News

kutubdianews

দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ সর্বস্তরের খবর অনুসন্ধানে সত্য তুলে ধরবো আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: