ওসি প্রদীপকে কাঠগড়ায় কথা বলতে দেখে এসটিআই সহ ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে শুনানির সময় কাঠগড়ায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা গেছে। সোমবার (২৩ আগস্ট) কক্সবাজার জেলার দায়রা জজ আদালতে মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলার সময় কাঠগড়ায় হাঁটু গেড়ে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তিনি। আর প্রদীপের সেই ছবি এখন পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। একজন আসামি কিভাবে এমন বেআইনি কাজ আদালতের ভেতরে করতে পারে, এ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও শুরু হয়েছে। এরই জেরে আদালতে দায়িত্ব অবহেলার কারণে এক এসটিআইসহ ৩ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, এসটিআই শাহাব উদ্দিনসহ চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে গতকাল আদালত সূত্র জানায়, মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস তার ভাইকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন আদালতে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন অভিযুক্ত ১৫ জন। তাদের মধ্যে প্রদীপ দুপুর ১২টার দিকে কাঠগড়ায় নিচু হয়ে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তার অদূরেই দাঁড়িয়েছিলেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক সদস্য। তবে তিনি প্রদীপকে কথা বলতে বাধা দেননি। আর কাঠগড়ার পাশে পুলিশ সদস্যদের জন্য দুটি চেয়ার বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কাউকে বসতে দেখা যায়নি। এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিনে তাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়। ভাইরাল ছবিটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ফরিদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মুঠোফোনে কথা বলার ছবিটি মঙ্গলবারের নয়। সোমবারের হতে পারে। তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, তা অনুসন্ধান করা জরুরি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার কাঠগড়ায় প্রদীপ খালি পায়ে ছিলেন। স্যান্ডেল বাইরে রেখে এসেছিলেন। কয়েক মিনিট কথা বলেন তিনি। এরপর ফোন রেখে দাঁড়িয়ে যান। ২টা ১০ মিনিটে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিলে সবাই স্বাভাবিকভাবে এজলাস থেকে বেরিয়ে আসেন। ঘণ্টাখানেক পর আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তবে তখন প্রদীপের হাতে মোবাইল ফোন দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সিনহা হত্যা মামলার এই আসামি মোবাইলে একের পর এক কথা বলেছেন। তার পরনে কালো পোলো শার্ট ছিল। জানা গেছে, বরখাস্ত ওসি প্রদীপকে কথা বলার জন্য মোবাইলটি সরবরাহ করেছিলেন সেখানেই দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবল। বিচার বিভাগীয় বাতায়নে আদালতের আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, আদালত চলাকালীন মোবাইল বন্ধ রাখতে হবে। অর্থাৎ, আদালতে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না।

Copyright© by Kutubdia News

kutubdianews

দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ সর্বস্তরের খবর অনুসন্ধানে সত্য তুলে ধরবো আমরা

Leave a Reply

x
%d bloggers like this: