নিরাপদে বাঁচার, নাই কি আমার অধিকার? এমন প্রশ্ন কন্ঠে কুতুবদিয়াবাসী

নিরাপদে বাঁচার – নাই কি আমার অধিকার? এই বলে প্রশ্ন তুললো কুতুবদিয়ার সর্বস্তরের জনগণ। আজ তারা কোনো উপায় না দেখে কাফনের কাপড় পড়ে বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন গিয়ে টেকসই বেড়ীবাঁধ এর জোর দাবী জানাচ্ছেন। তারা আরো বলে যাচ্ছে, আমাদের কোনো ত্রাণ লাগবেনা, লাগবে প্রথমে টেকসই বেড়ীবাঁধ, এরপর সরকার হতদরিদ্র পরিবারদের ভালোবেসে যদি দেয় ত্রাণ তাহলে আমরা সবাই সে ব্যাপারে সরকারকে জনদরদী সরকার বলে অভিনন্দন জানাবো।

কুতুবদিয়াবাসী সে সাথে আরও বলে যাচ্ছে, কুতুবদিয়ার চতুর্পাশে বেড়িবাঁধ এর জন্য কতো টাকা লাগতে পারে সেটা বিবেচনার ফলে সংসদে বিল পাশ হয়েছে, এমনকি সে ব্যাপারে নিউজ মিডিয়া সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে এই কুতুবদিয়ার চতুর্পাশের বেড়ীবাঁধ এর বাজেট নিয়ে। তাহলে কেন সে বাজেট পরিপূর্ণ ব্যয় করা হয়নি বেড়ীবাঁধ কাজে? আমরা জনগণ কি এসব হিসাবনিকাশ বুঝিনা? আমরা দ্বীপ অঞ্চলে বসবাস করি বলে কি আমাদের মূল্য নেই? এমন এমন কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো দ্বীপে বসবাসরত জনগণ।

দেখা যাচ্ছে সামান্য পূর্নিমার জোয়ার আর ঘূর্ণিঝড় “ইয়াস” এর প্রভাবে নিমিষে ডুবে গেছে বেড়ীবাঁধহীন দ্বীপাঞ্চল কুতুবদিয়া। লোনা পানির ছুঁয়ায় ভেঙ্গে গেছে শতশত ঘরবাড়ি। কান্নার শব্দচয়ণ শুনা যাচ্ছে হাজারো দ্বীপ লোকালয়ের মানুষের কন্ঠে। এসব কি চোখে পড়ে না উর্ধতন সরকারি কর্মচারীদের? তাদের দৃষ্টি যদি নমনীয় হয়ে একটু কুতুবদিয়া দ্বীপের দিকে পড়তো তাহলে কোনো আমলা, দালাল, নেতা, টিকাদার বেড়ীবাঁধ এর টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ পেতো না।

প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের বসবাসে কুতুবদিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেড়ীবাঁধ এর জন্য নতুন করে সরকারের কাছে বাজেটের আবেদন জানিয়ে বলা হচ্ছে আগামী বেড়ীবাঁধ নির্মাণে সম্পূর্ণ ঐ বাজেট দেশের সেনাবাহিনীর হাতে দিয়ে কুতুবদিয়ার চতুর্পাশে সেনাবাহিনী দ্বারা টেকসই বেড়ীবাঁধ দেওয়া হউক। অন্যতাই ৫০ হাজার পরিবার সহ কুতুবদিয়ার মানুষকে সমুদ্রে বিলীন করে দিক, এতেই আমাদের কোনো আপত্তি নেই, সহজে লোনা পানি খেয়ে উপর ওয়ালার কাছে চলে যেতে পারলেই আমাদের জন্য উত্তম হবে বলে মনে করি।

১০ বার লোনা পানি খেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে – ১ বার লোনা পানি খেয়ে মরে যাওয়া হাজার গুণ ভালো। এই দেশে প্রভাবশালী থাকার যেমন অধিকার রয়েছে, তদ্রূপ গরীব দুঃখী থাকারও তেমন অধিকার রয়েছে। আজ আপনার ক্ষমতার জুড়ে আপনি যা করার অধিকার রাখেন, ঠিক একই জায়গায় আমারও বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। দলীয় জায়গায় একটু সুযোগ পেয়ে আপনার টাকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আজ আপনি প্রভাবশালী হয়ে ফ্ল্যাট নিচ্ছেন ঢাকা কিংবা শহরে, কার টাকা দিয়ে এই বিলাসবহুল করে থাকছেন একটুও কি ভাবছেন? সেখানে থাকতে পারে হতদরিদ্র গরীবের পারিশ্রমিক এর ট্যাক্সের টাকাও।

সরকারি চাকরি বা সরকারের যে কোনো আমলা মাসিক আয়ে যে টাকা পায় তা দেওয়া হয় জনগণের ট্যাক্স থেকে, সে হিসেবে দেশে থাকার অধিকার সবার সমান। দেশের সে আইন লক্ষ্য করে কুতুবদিয়ার জনবাসীর দাবীকে গভীর মনযোগ সহকারে দেখা হউক বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়ার সর্বস্তরের জনসাধারণ। গভমেন্টকে তাদের দাবী মনিটরিং করে দেখার জন্য তাদের আকুল অনুরোধ। অন্যতাই কাফনের কাপড় পড়ে ভাঙ্গন বেড়ীবাঁধে লুটিয়ে ডুবে মরে যেতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে তারা, সে সাথে আরও বলে যাচ্ছে – তখন বাংলাদেশ হবে ১ নম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ। আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত হবে জঘন্য মায়াহীন ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর দেয়া উপহারের সোনার বাংলা এক নিমিষে হয়ে যাবে আত্মহারা মরণব্যাধি বিষাক্ত বাংলা। এই হচ্ছে কুতুবদিয়ার কন্ঠে গন্তব্যে পোঁছানোর এক বিশাল আর্তনাদ।

দ্বীপের ভাষায় আমার ভাষা – একি ভাষায় লেখক: মোঃ সাগর।
“দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ” সংবাদ সম্পাদক।

Copyright© by Kutubdia News

kutubdianews

দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ সর্বস্তরের খবর অনুসন্ধানে সত্য তুলে ধরবো আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: