বাঁশখালী ছনুয়া জেটিঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার সংযোগ ‘ছনুয়া-কুতুবদিয়া টার্মিনাল জেটিঘাট’ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন ছনুয়া-কুতুবদিয়া টার্মিনাল জেটিঘাটটি কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের মুখ দেখেনি। ছনুয়া জেটিঘাটটি সংস্কার না করায় মরণফাঁদে ঝুলে আছে উভয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ছনুয়া জেটিঘাট দিয়েই প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধাসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।

এতে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রতিনিয়ত পারাপার হওয়া যাত্রী সাধারণ। প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার ডাক হলেও ঘাট সংস্কারের নেই কোনো উদ্যোগ। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠের তৈরি নড়বড়ে জেটিঘাটটি মাঝখান বরাবর দেবে গেছে। সাগরের সঙ্গে সংযোগ ঘাটের ১০ থেকে ১২ ফুটের মতো দীর্ঘ অংশ মূল জেটিঘাট থেকে ঝুলে আছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা।

তার মধ্যে ঈদের আগে থেকে শুনা যাচ্ছে ছনুয়া জেটিঘাট নিয়ে সংস্কারের নেই কোনো উদ্যোগ, এই ফাঁকে নিয়ম বহির্ভূত অবস্থানে পা বাড়ালো ছনুয়া জেটিঘাটের দায়িত্বরত ব্যক্তিগণ। তারা কুতুবদিয়া টু ছনুয়া জেটিঘাট দিয়ে পারাপার’কিত যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করতেছে বলে জানা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রতি জন থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা করে টোল আদায়। সাথে যদি কোনো রকম মালামাল থাকে তারও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টোল। এই ব্যাপারে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানাচ্ছে পারাপার’কিত যাত্রীরা। এবং করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে সুনির্দিষ্ট টোল আদায়ের পরিমাণ।

এদিকে বিগত কয়েক বছর যাবত জেটিঘাটের রাস্তায় সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ২টি দোকান। জানা যায়, ছনুয়া টার্মিনাল জেটিঘাট হয়ে প্রতিনিয়ত লোকজন কুতুবদিয়া উপজেলায় যাতায়ত করেন। এছাড়াও কুতুবদিয়ার পীরে কামেল মালেক শাহের (রহ.) মাজার জিয়ারত করার জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ভক্ত-আশেক ও মুরিদানরা মাজার জিয়ারত করতে আসেন এই জেটি দিয়ে। অধিকাংশ মানুষের কুতুবদিয়া-বাঁশখালী যাতায়তের একমাত্র মাধ্যম এই ছনুয়া জেটিঘাট।

অন্যদিকে কুতুবদিয়া-ছনুয়ার অধিকাংশ লবণ ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার প্রতিনিয়ত এ ঘাটই ব্যবহার করে থাকে। বাঁশখালীর ব্যবসায়ী মুহাম্মদ রিদোয়ান  জানান, ছনুয়া জেটিঘাট দিয়ে কুতুবদিয়ার ধুরুংঘাট ও আকবলীর ঘাটে প্রতিনিয়ত যাতায়ত করছে উভয় অঞ্চলের লোকজন। বিশেষ করে শহর থেকে ব্যবসায়ের জন্য বিভিন্ন মালামাল বহন করতে, নিয়মিত যাতায়াতে এ ঘাটটিই ব্যবহার করছি চরম ঝুঁকি নিয়ে। যে কোন সময় ভয়ানক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি’।

ছনুয়া টার্মিনাল জেটিঘাটের ইজারাদার  শমসের শরীফ বলেন, বিআইডব্লিটিএর অধীনে অন্যান্য স্থানের ঘাটগুলো পাকা থাকলেও বাঁশখালী অংশে ছনুয়া মনু মিয়াজিঘাট এখনও পর্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রামের উপপরিচালক নয়ন শীল দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ কে বলেন, কুতুবদিয়া-বাঁশখালী সংযোগ ছনুয়া মনুমিয়াজি জেটিঘাটটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। ছনুয়া জেটিঘাট সংস্কার করার জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। টেন্ডার বাস্তবায়ন হলে খুব শীঘ্রই সংস্কার করা হবে।

Copyright© by Kutubdia News

kutubdianews

দৈনিক কুতুবদিয়া নিউজ সর্বস্তরের খবর অনুসন্ধানে সত্য তুলে ধরবো আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: